শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
আমরা কেউ সংখ্যালঘু নই সবাই মানুষ সনাতনীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে -আশফাক বায়েজিদে ওয়াশিং কারখানার দূষণে নাজেহাল জনপদ, প্রশ্নের মুখে পরিবেশ অধিদপ্তর সংসদে উঠছে না গণভোটসহ ১৬ অধ্যাদেশ: বাতিল হচ্ছে ১২ এপ্রিল শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: সামরিক শক্তিতে এগিয়েও কেন ইরানের কাছে ‘অসহায়’ ট্রাম্প? অফিস ৯-৪টা, সন্ধ্যা ৬টায় মার্কেট বন্ধ: ব্যয় সংকোচনে সরকারের গুচ্ছ সিদ্ধান্ত জালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস: তিন দেশ থেকে তেল আনছে সরকার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসান: রাণীশংকৈলে আহসান হাবিবকে বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনা

মাছের ঝোলের সুঘ্রাণে মাতোয়ারা তিস্তাবাসী

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

রবীন্দ্রনাথ ঠকিুর ছোটবেলায় ফেরিওয়ালাকে মাছ বিক্রি করতে দেখেছেন। সে স্মৃতি থেকেই তিনি ‘বালক’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত গলির ও পার থেকে/তপ্সিমাছের ঝুড়িখানা গামছা দিয়ে ঢেকে’। সেই গামছা দিয়ে ঢেকে এই কার্তিক মাসেই তিস্তার গ্রামে গ্রামে তাজা মাছ বিক্রির ধুম পড়ে। এই মাসেই তাজা সুস্বাদু মাছ দিয়ে তৈরি পাতলা ঝোলের সুঘ্রাণে মাতোয়ারা হয় তিস্তাবাসী। এখন মাঘ মাস তিস্তা পারের পুকুর-বিল-জলাশয়গুলো থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তাই যতই পানি কমছে, ততই যেন মাছের দাপাদাপি বেড়ে যাচ্ছে। বড়ই ‘অদ্ভুত সুন্দর’ সে দাপাদাপি! পানির ওপরে মাছ ভাসছে আর কিলবিল করে নরছে।

গ্রামের বুড়ো থেকে শুরু করে দুরন্ত কিশোর, কে না গা ভাসাচ্ছে সেই তিস্তার তর তাজা সেই মাছ ধরার নেশায়? তিস্তার কোথাও কোথাও পুকুর-জলাশয়ের পানি একেবারেই শুকিয়ে গেছে। সেসব স্থানে জলকাদায় একাকার হয়ে দল বেঁধে নেমে পড়েছে শিশু কিশোরেরা। কেউ কেউ জালের সাহায্যে, আবার কেউ পুকুরে কাদা হাতড়িয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল, দুপুর, বিকেল পর্যন্ত প্রায় সারাদিন বিরামহীন ভাবে চলছে তাদের এ মাছ ধরা। এ যেন এক মাছ ধরার মহোৎসব। মৎস্যজীবী ছাড়াও কেবল শখের বশেই তিস্তার বাসিন্দাদের অনেকে মাছ ধরায় মশগুল হয়ে পড়েছে।

জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ডালিয়া গ্রামের আশপাশের তিস্তা-বিল-জলাশয় তীরবর্তী এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে কিশোরেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তি¯Íার পানি কমতে শুরু করেছে। বিল জলাশয় গুলোতে চলছে মাছ ধরার উৎসব। জেলার কয়েকটি ছোটখাটো বিলের পানি শুকিয়ে পড়ায় কয়েক দিন ধরে তিস্তা পারের সেসব এলাকায় চলছে টানা মাছ ধরার মহোৎসব।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারী) কথা হয় প্রায় পনেরো বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম ও রফিকুল মিয়া নামের দুই কিশোরের সঙ্গে। তারা অভিন্ন কণ্ঠে বলে, ‘পানি নামায় আমরা অনেকটা শোখের বশে মাছ ধরতাছি। এখানে পুঁটি, চান্দা, ইছা, বালিগড়া, টেংরা আরও অনেক অনেক মাছ দেখা যায়। ঠিকমত আপনি এখানে এক ঘণ্টা মাছ ধরলেই ঝুড়ি ভরি যাবে!’ লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলাই তিস্তা অধ্যুষিত অঞ্চল। সংগত কারণেই এখানে মাছের পরিমাণ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় একটু বেশিই। কার্তিকের শুরুতে পানি কমে যাওয়ার কারণেই তিস্তাবাসী মাছ ধরার বিমলানন্দে মেতে উঠেছেন। ’

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার হাজিরহাট গ্রামের বাসিন্দা সাহেদ আলী বলেন ‘আগে পানি নামার এমন সময়টাতে (মাঘ মাস) নানা প্রজাতির দেশি মাছ ধরা পড়ত, এখন আর সেসব মাছ নেই বা চোখে পড়ে না। তবে যা পাওয়া যায়, সেসবের স্বাদও ভিন্ন। বিল-জলাশয়ের তাজা মাছের স্বাদই আলাদা।’

হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (৫২) জানান, মাঘ মাসের আগে ও পরে তিস্তার ঘেঁষা বিল-জলাশয় গুলোর পানি কমতে শুরু করে। তখন স্থানীয়রা শখের বশে মাছ ধরতে নামেন, এটাই তিস্তার চিরাচরিত নিয়ম। বাইম, গুথুম, পাবদা, বোয়াল, বাগাড়, শিং, মাগুর, আইড়সহ নানা সুস্বাদু মাছ ধরাও পড়ে। আর এসব দেশীয় মাছ রান্না করার পর মাছের ঝোলের সুঘ্রানে মন ভরে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com